কলিহাসান, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বারইকান্দি গ্রামে রেকর্ডভুক্ত জমি সংলগ্ন সরকারি খাস জায়গা থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সেলিম ফকির (৩৫)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী শেফালী বেগম (৪৪)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শেফালী বেগম বলেন, বসতবাড়ি সংলগ্ন ওই খাস জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে বীজতলা তৈরি ও কৃষিকাজ করেই সংসারে বাড়তি সহায়তা হতো তাদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব থেকেই বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। গত ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে সেলিম ফকির তার লোকজন নিয়ে বেকু (খননযন্ত্র) বসিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন শুরু করেন। এতে বসতবাড়ির সীমানার মাটি ধসে পড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তা পাশের খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদ করলে শেফালী বেগমকে গালিগালাজ করা হয় এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে মারতে তেড়ে আসা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, কাপাসাটিয়া বাজার থেকে কুমুদগঞ্জ বাজার পর্যন্ত চলমান সড়ক উন্নয়নকাজে রাস্তার পাশে মাটি ভরাটের জন্য সেলিম ফকির অবৈধভাবে এই জমির মাটি ও বালু ব্যবহার করছেন, এমনকি তা বিক্রিও করছেন।

শেফালী ও তার স্বামী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ, কোনো মতে সংসার চলে। ছেলেটা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে, সেটাই আমাদের একমাত্র ভরসা। বাধা দিলেই অশ্লীল গালমন্দ, মারধরের ভয় ও নানা হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দুর্গাপুর থানার সাব–ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।