পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহতদের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হাসপাতাল ও তাদের নিজ নিজ গ্রামগুলো ভারী হয়ে উঠেছে।

শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কের পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিস অফিস সংলগ্ন ইলাশপুর এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুর্গাপুর থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী ‘আল্লাহ দান’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই পূর্বধলা উপজেলার দক্ষিণ কালডোয়ার গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক (৫৭) প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। গুরুতর আহতদের পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (প্রায় ৫০ বছর বয়সী) আরও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মোল্লা মিয়া (৪৫), ডা. সারা তাবাসসুম উর্মি এবং মো. মনির হোসেন (২৩)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহত ও আহতদের স্বজনরা। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় তাদের বুকফাটা কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নিহতদের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম—স্বজনদের আহাজারিতে যেন থমকে গেছে পুরো গ্রাম।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ধরনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা আবারও আমাদের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অসতর্ক চালনার কারণেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—সড়কে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি এবং চালকদের সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন অকাল শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।

সচেতন মহল মনে করছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।