দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৫ বছরের এক কন্যাসন্তানকে চকোলেট ও খেলার লোভ দেখিয়ে পাশবিক ধর্ষণের মামলার জেরে বাদিনীর পরিবারকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষ এই হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১২ মে দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন বাদিনী মোসাঃ রোজিনা আক্তার (২৩) (জিডি নম্বর: ৬০৮)।
এদিকে বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
আদালতের নালিশি মামলা ও জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিতারজান গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার মূল বাদিনী রাশিদা আক্তার তার ৫ বছর বয়সী নাতনিকে (ভিকটিম) ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী চাচা সাকিব মিয়া (১৬), পিতা- তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল বিজ্ঞ শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, নেত্রকোনায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৪৪০/২০২৬)। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন গত ২১ এপ্রিল দুপুরে ভিকটিম বাড়ির উঠানে খেলার সময় অভিযুক্ত সাকিব মিয়া তাকে খেলা করা ও মজা খাওয়ানোর কথা বলে ফুসলিয়ে তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নাতনিকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাদিনী অভিযুক্তের ঘরের দরজার কেঁচি গেট বন্ধ পেয়ে ডাকডাকি করেন। ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ পেয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্ত দরজা খোলে এবং বাদিনীকে দেখে খাটের নিচে মাথা লুকিয়ে ফেলে। বাদিনী ঘরে ঢুকে ভিকটিমকে খাটের ওপর ব্যথার যন্ত্রণায় কাঁপতে ও কান্নাকাটি করতে দেখেন। পরবর্তীতে ভিকটিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও জানা যায়, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ভিকটিমের পরিবারকে জোর করে ৫০০০/- টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দেয়। থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলার পরামর্শ দিলে বাদিনী বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে এই নালিশি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর করে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর সংশোধন কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আদালত কর্তৃক আসামির জামিন নামঞ্জুরের পর থেকেই বিবাদী পক্ষ চরম আক্রোশে ফেটে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে সকাল আনুমানিক ০৭:০০ ঘটিকায় বিবাদী পক্ষের ১ নং বিবাদী শেফালী খাতুনসহ ৮-৯ জন লোক রামদা, রড ও বাঁশের লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদিনীর বসতবাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় ভিকটিমের চাচা মোঃ পপন মিয়া (২৫)-এর ওপর চড়াও হয়। বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে যে, বিজ্ঞ আদালত থেকে ধর্ষণের মামলা তুলে না নিলে তারা ভিকটিমের পরিবারকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে এবং গ্রাম ছাড়া করবে। বর্তমানে বিবাদীদের এমন ক্রমাগত হুমকিতে পুরো পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জিডি ও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাফিজুর রহমান মহোদয় এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরই কঠোর নির্দেশনায় থানায় ডায়েরিভুক্ত করে বিষয়টির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) মোস্তাক আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
