নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় হামলা, মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ২৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বধলা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী উপজেলার হুগলা গ্রামের মৃত নূরুল ইসলাম আকন্দের ছেলে এমদাদুল হক আকন্দ। তিনি পূর্বধলা আমলী আদালতে (দরখাস্ত মোকদ্দমা নং-২৪১/২০২৬) মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের হলরুমে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ডাক চলাকালে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন বিকেলে আগিয়া বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও আনা হয়েছে।

 পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার বলেন,এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো, ওই সময় আমাদের নেতাকর্মীরাই হামলার শিকার হয়েছেন এবং এ বিষয়ে আমরা অনেক আগেই পূর্বধলা থানায় মামলা করেছি। এখন আমাদের করা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়-ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাউন্টার মামলা করেছে। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নির্দোষ নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।