নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় খেলার ছলে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে রান্নাঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের জাফর বৈরাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
অভিযুক্ত কিশোরের নাম ইয়াসিন (১৩)। সে পাশের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে ওই শিশুটি তার সমবয়সী এক খেলার সাথীকে নিয়ে নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন কৌশলে শিশুটিকে ঘরের পাশের একটি নির্জন রান্নাঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে সে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় শিশুটি তার মায়ের কাছে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটনাটি জানায়।
ঘটনার পরপরই শিশুটির মা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে বিষয়টি জানান। ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক সেন্টু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমার অবুঝ মেয়েটা উঠানে খেলছিল। দুনিয়ার কিছু বোঝে না সে। সেই বাচ্চার সাথে কীভাবে এইরকম পৈশাচিক কাজ করল? ও ব্যথায় এখনও ছটফট করছে, ভয়ে চোখ মেলতে পারছে না। আমি সরকারের কাছে এই কষ্টের সঠিক বিচার ও দোষীর ফাঁসি চাই।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, যেহেতু অভিযুক্তের বাড়ি গৌরীপুর থানা এলাকায়, তাই আইনি জটিলতা এড়াতে ও দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট গৌরীপুর থানার মাধ্যমে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা (Medical Test) ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
