পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:নেত্রকোণার পূর্বধলা থানাধীন কালিহর নদীতে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ভেসে উঠা এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই নিষ্ঠুর ঘটনার পেছনে বেরিয়ে এসেছে এক ১২ বছরের শিশুকে লাগাতার ধর্ষণের পর অবৈধ গর্ভপাত ও প্রমাণ লোপাটের এক লোমহর্ষক কাহিনী। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা ও ধর্ষক মোঃ সাজন মিয়া (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:২০ ঘটিকায় পূর্বধলা থানাধীন হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকার কালিহর নদীতে একটি নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা অবস্থায় ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৩১২/৩১৬/৩১৮ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৪৫(০৬)২০২৬) দায়ের করেন।

মামলা রুজুর পর নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব সজল কুমার সরকারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায়, পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর তত্ত্বাবধানে তদন্তে নামেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম।

বিশ্বস্ত সোর্স এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় কোণাকালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে পেশায় কৃষক সাজন মিয়া (২৫) তার প্রতিবেশী ১২ বছরের এক শিশুকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিমের মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে গত প্রায় ৭ মাস আগে সাজন মিয়া প্রথমবার শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই-তিন দিন পর পরই শিশুটিকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতে থাকে সে। এতে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়লেও বয়স ও শারীরিক গঠন ছোট হওয়ার কারণে বাবা-মা বিষয়টি টের পাননি।

গত ২৮ জুন সকাল থেকে ভিকটিম পেটে ব্যথা অনুভব করে। ঐদিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১:০০ ঘটিকার সময় বসতঘরের প্রস্রাবখানার পাশে যন্ত্রণায় একটি মৃত কন্যা শিশু প্রসব (গর্ভপাত) করে সে। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে সাজন মিয়ার ধর্ষণের পুরো বিষয়টি খুলে বলে। ভিকটিমের মা ধর্ষক সাজন মিয়াকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ লুকাতে সাজন মিয়া নিজের একটি কালো শার্ট দিয়ে মৃত নবজাতকের দেহটি পেঁচিয়ে রশি দিয়ে ইট বেঁধে দেয়। গত ৩০ জুন ভোর আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় লাশটি কালিহর নদীতে ফেলে দেয় সে।

পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে মূল আসামী সাজন মিয়াকে গ্রেফতার করে এবং ভিকটিম শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এই রোমহর্ষক সত্য উদ্ঘাটিত হয়।

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,নদীতে ইট বাঁধা অবস্থায় নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল ছিল। আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিরতিহীন তদন্ত শুরু করি। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা মূল আসামী সাজন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং পুরো রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। একটি ১২ বছরের অবুঝ শিশুকে দিনের পর দিন ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত ধর্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপরাধে আরও একটি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম কঠোরভাবে অব্যাহত আছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।