নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে সরাসরি 'অ্যাকশনে' নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের হয়রানি বন্ধ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য দমনে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে তার নেতৃত্বে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩ দালালকে অর্থদণ্ড এবং ৫ নারীকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে ইউএনও’র সাথে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান মামুন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বিশ্বপ্রিয় মজুমদারসহ পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে আসা সরল-সোজা রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার সময় হাতেনাতে ৮ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে নাছির উদ্দীন (২৫), জুবায়ের (৩০) ও মিদুল (২৫) নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায় মোবাইল কোর্টের বিচারক প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
এছাড়া আটককৃত অন্য পাঁচ নারী— ছাবিনা (৩৫), মোমেনা (৪০), ফাতেমা খাতুন (৬০), রেনু (৪০) ও রেজিয়া (৪৫) ভবিষ্যতে হাসপাতাল এলাকায় কোনো ধরনের দালালি কার্যক্রমে জড়িত হবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিলে তাদেরকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, সাধারণ রোগীদের হয়রানি মুক্ত রাখা এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিবেশ স্বচ্ছ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে প্রশাসনের এই মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কোনভাবেই রোগীদের নিয়ে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
