মোঃ আল আমিন শেখ স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইসমাইল এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ওই শিশুটি সিরাজপুর গ্রামের স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়তে যায়। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক ইসমাইল তাকে ফুসলিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও, পরবর্তীতে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। বর্তমানে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক ইসমাইল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার জন্য শিশুরা মাদরাসায় যায়। সেখানেই যদি শিক্ষকের হাতে শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা সন্তানদের কোথায় পাঠাবো? আমরা এই লম্পট শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের তীব্র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
