পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি :নেত্রকোণার পূর্বধলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দেশীয় মৌসুমী ফলের ঐতিহ্য তুলে ধরা, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এক জাঁকজমকপূর্ণ মৌসুমী ফল উৎসব, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ উৎসবমুখর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি রূপ নিয়েছিল পূর্বধলা উপজেলার কর্মরত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের এক অপূর্ব মিলনমেলায়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকদের পারস্পরিক কুশল বিনিময়, আড্ডা, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ।

পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জায়েজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ারের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন,পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আজকের আরবান-এর প্রকাশক-সম্পাদক সৈয়দ আরিফুজ্জামান মাছুম,উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, সেলিম উদ্দিন, আহমদ আলী সরকার, এম এ মান্নান ও আনোয়ার ইসলাম আনার,উপজেলা বিএনপির সদস্য আশরাফ উদ্দিন তালুকদার,পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলী শাহীন ও শফিকুল আলম শাহীন,সাবেক সহ-সভাপতি নুর আহমদ খান রতন,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন আকন্দ প্রমুখ।

এ সময় উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর বিভিন্ন দেশীয় মৌসুমী ফল যেমন—আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আনারস, কলা, লটকন, নারকেল, আমলকী ও ড্রাগন ফলসহ নানা জাতের ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ফল উৎসবের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন শ্রেণির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন,দেশীয় ফল আমাদের পুষ্টির প্রধান উৎস। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। পূর্বধলা প্রেসক্লাবের এমন ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। সাংবাদিকদের এই মিলনমেলা ও সমাজ সচেতনতামূলক উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

এবারের আয়োজনের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল উপজেলার সকল গণমাধ্যমকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। পেশাগত ব্যস্ততা ঠেলে উপজেলার প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের এই মিলনমেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক ভিন্ন রকম উৎসবের হাওয়া বইয়ে দেয়। একে অপরের সাথে পেশাগত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, সৌহার্দ্যপূর্ণ কুশল বিনিময় এবং হাস্যরসে মেতে ওঠেন সংবাদকর্মীরা। উপস্থিত অতিথিরা সাংবাদিকদের এই ঐক্য ও আনন্দঘন পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।