দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর পৌরসভা গঠনের তিন দশক পার হলেও কাঙ্ক্ষিত আধুনিকতার ছোঁয়া পাননি স্থানীয় পৌরবাসী। ১৯৯৪ সালে স্থাপিত এবং ২০১৬ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হলেও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থায়ী যানজট নিরসন, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জনভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে নানা আলোচনার ঝড়। তবে সব জল্পনা-কল্পনার শীর্ষে রয়েছেন তৃণমূল রাজনীতিতে সততা ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নেতা আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ২২ হাজার ভোটার এবার এমন একজন ‘নগরপিতা’ বেছে নিতে চান, যিনি কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটাবেন না, বরং দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রদর্শিত নীতি ও সততাকে ধারণ করে দুর্গাপুরকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুশাসিত ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তর করবেন।

ব্যক্তি নয়, দল নয়, সবার উপরে দেশ; দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ — দেশনায়ক তারেক রহমানের এই দূরদর্শী বার্তা ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপকল্পকে ধারণ করে দুর্গাপুরে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমেছেন আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রবীণ ভোটারদের মতে, দুর্গাপুরের রাজনীতিতে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার কেবল একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নন; বরং তিনি রাজপথের চরম দুঃসময়ে গড়ে ওঠা এক নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

 রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মীদের আগলে রাখা এই নেতা ২০১৫ ও ২০২২ সালে চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও হুমকির মধ্যেও দলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত মান্য করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। গত সরকারের টানা এক দশকেরও বেশি সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ডজনখানি মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ কারাজীবন। প্রতিপক্ষ ও অশুভ শক্তির আক্রোশে পৈতৃক ভিটা অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া সত্ত্বেও এবং রাতের পর রাত ঘরছাড়া থেকে পালিয়ে বেড়াতে হলেও তিনি আদর্শের পথ ত্যাগ করেননি। এমনকি চব্বিশের ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও রাজপথে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। নানা প্রলোভন কিংবা নির্যাতনের মুখেও নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি জামাল উদ্দিন মাস্টার। তার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার ইতিবাচক চরিত্র তাকে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের আস্থার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশিত ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণ বড়— এই দর্শনকে সামনে রেখে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার দুর্গাপুর পৌরসভার জন্য সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন:

১. জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ নিরসন: কংস ও সোমেশ্বরী নদীর সাথে যুক্ত প্রধান প্রধান নালা-খাল পুনঃখনন করে টেকসই ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা।

২. স্বচ্ছ ও আধুনিক নাগরিক সেবা: পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানি দূর করতে পুরো পৌর প্রশাসনকে ডিজিটালাইজড করা।

৩. যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী: অপরিকল্পিত যানজট দূর করতে পর্যটন সমৃদ্ধ দুর্গাপুরে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নতুন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ।

৪. জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণ: তরুণদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনবান্ধব সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

নির্বাচন ঘিরে বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও আলোচনায় রয়েছে:

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ: দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান ফরিদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় আছেন। অন্যদিকে সাবেক মেয়র শুভেন্দু সরকার পিন্টু ইতিপূর্বে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা এবং বিগত আন্দোলনের দিনগুলোতে রাজপথে নিষ্ক্রিয় থেকে ঠিকাদারী ব্যবসায় ব্যস্ত থাকার কারণে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে তার ব্যাপারে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

 জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার এবং ব্যাংকার জিয়াউর রহমান-এর নাম কর্মী-সমর্থকদের মুখে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে সিপিবির সম্ভাব্য প্রার্থী শামছুল আলম ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

যিনি টানা রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করেও মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই জামাল উদ্দিন মাস্টারের সততা ও তারেক রহমানের সুশাসনের বার্তাই এবার ভোটের মাঠে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। দুর্গাপুরের অবহেলিত মানুষ এবার পরিচ্ছন্ন ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের হাতেই পৌরসভার দায়িত্ব তুলে দিতে চায়।