নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রিয়া মনি (২২) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ১৫ জুলাই উপজেলার ৯ নং খলিশাউড় ইউনিয়নের ডুপিরকান্দা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নববধূর এমন অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রিয়া মনি ওই গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে এবং ইমরান মিয়ার স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র পাঁচ দিন আগে গত ১০ জুলাই অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পারিবারিকভাবে ইমরান মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রিয়ার। লাল বেনারসি পরে যে মেয়েটি কদিন আগে নতুন সংসারে পা রেখেছিল, সেই সংসারের দেয়ালেই তার জীবনের গল্প এভাবে থমকে যাবে—তা ভাবতেও পারেনি কেউ।
স্বজনরা জানান, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্নার কাজ শেষ করেন রিয়া। এরপর স্বামীর সাথে নিজের ঘরেই ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর শাশুড়ি সালেমা খাতুন তাকে খুঁজতে গিয়ে ঘরে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রিয়ার বড় ভাসুর হানিফ মিয়া পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে তাকাতেই আঁতকে ওঠেন। তিনি দেখেন, হলুদ রঙের একটি ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন রিয়া। ভালোবাসার রঙিন সংসারে এসে মাত্র পাঁচ দিনেই নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার এই নির্মম দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে যান পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর শুরুর দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই স্বামীর পরিবার জানতে পারে, বিয়ের আগে রিয়া মনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য, পরিবারের হাল ধরতে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর এই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টাই যেন কাল হলো তার জীবনে।
অভিযোগ উঠেছে, তথাকথিত 'সম্ভ্রান্ত পরিবার'-এর অজুহাতে এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি শ্বশুরবাড়ির লোকজন। চাকরি করার বিষয়টি নিয়ে রিয়াকে প্রতিনিয়ত নানা কটু কথা, মানসিক লাঞ্ছনা ও তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে শুরু করে তারা। এমনকি বিয়ের ঘটককেও ডেকে এনে এ নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। চারদিকের এমন তীব্র অপমান, মানসিক নির্যাতন ও অপবাদের বোঝা সহ্য করতে না পেরেই মাত্র ২২ বছর বয়সী রিয়া আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি তার শোকগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এই ঘটনার পেছনে আসলে কী ঘটেছিল এবং কারা জড়িত রয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
