বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোণা:আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং মানবিক পুলিশিং সেবায় অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে নেত্রকোণা জেলার ‘শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ নির্বাচিত হয়েছেন পূর্বধলা থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। জেলা পুলিশের জুন-২০২৬ মাসের সামগ্রিক কর্মমূল্যায়নে তিনি এই গৌরবময় গৌরব অর্জন করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাঁর হাতে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি থানার অপরাধচিত্র, স্পর্শকাতর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক ও চোরাচালান বিরোধী সফল অভিযান এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মতো কঠোর সূচকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। সবকটি সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার দৃষ্টি কাড়েন পূর্বধলা থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পুরস্কার প্রদানকালে নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন:পুলিশের মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। যারা পেশাদারিত্ব, সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন, এই সম্মাননা তাদের সেই নিরলস ত্যাগেরই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। তবে পুরস্কার পাওয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অর্জনের মর্যাদা ধরে রাখা। মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আরও বেশি মানবিক হয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার এবং মামলার তদন্তের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য কঠোর তাগিদ দেন।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,যেকোনো কাজের স্বীকৃতি কাজের উদ্দীপনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এই গৌরব শুধু আমার একার নয়; এটি পূর্বধলা থানার প্রতিটি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যের রাতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আমাদের অভিভাবক পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পূর্বধলার সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না।
তিনি আরও বলেন,আমরা পূর্বধলা থানাকে একটি দালালমুক্ত, হয়রানিমুক্ত এবং শতভাগ জনবান্ধব সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের আপসহীন অবস্থান বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। একই সাথে সাধারণ মানুষের জন্য ওসির দরজা উন্মুক্ত করে দিয়ে তিনি অল্প দিনেই স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর এই অর্জনে পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ (পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ।
