ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাঁর নামে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘তথ্যজোড়া’ পোর্টালে ‘মাসের টাকা বিকাশে পাঠাবেন– শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে ওসির বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ’ এবং ২৮ আগস্ট ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় ‘শ্যামগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে ওসি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
ওইসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ত্রুটিযুক্ত ও কাগজপত্রহীন যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর—বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মাসিকভিত্তিতে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বালু, রড, সিমেন্ট, সার, ইটভাটা, ভাঙারি ও বেকারির পণ্যবাহী গাড়ির পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও নিজস্ব রেকার না থাকা সত্ত্বেও গাড়ি আটকে কৃত্রিমভাবে ‘রেকার বিল’ দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও প্রকাশিত সংবাদে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আরও একটি ৬৫ জনের মাসোয়ারার তালিকার উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম।
এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, গত ২৫ আগস্ট ‘তথ্যজোড়া’ পোর্টালে এবং ২৮ আগস্ট ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার কোনো বক্তব্য গ্রহণ না করে এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই মনগড়াভাবে এসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।”
ওসি আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় আমার নামে প্রকাশিত এসব সংবাদে যেসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না করেই আমার নাম ব্যবহার করে এসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আমার নামে এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক প্রতিবাদলিপিতে ওসি আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন সাংবাদিক আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। আমি তাদের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমি প্রকাশিত এসব সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওসি বলেন, “আমি দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকরা সততা, নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা মহল যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রতিবাদ জানিয়ে ওসি আমিনুল ইসলাম প্রকৃত তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।
