দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের চরমোক্তারপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনতলা ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি দখল করে কীভাবে এত বড় স্থাপনা নির্মাণের কাজ নির্বিঘ্নে চলছে—তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি জমি রক্ষা, অবৈধ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ এবং নির্মিত স্থাপনা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, চরমোক্তারপাড়া এলাকায় আনুমানিক ৮ শতাংশ সরকারি খাস জমি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেআইনিভাবে জবরদখল করা হয়েছে। ওই জমিতে কাতারপ্রবাসী হাজী নুর হোসেনের অর্থায়নে ইমারত নির্মাণ আইন ও সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় লোকদের অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাস জমিতে কোনো বৈধ অনুমোদন বা আইনগত ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তা সরকারি সম্পত্তি দখল ও নির্মাণসংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। ফলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জমির দখলমুক্তি এবং অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে পাশের অসহায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় কেয়ারটেকার রবি মিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভবনের ইট, সিমেন্টের টুকরা ও নির্মাণসামগ্রীর বর্জ্য পাশের দরিদ্র পরিবারগুলোর টিনের চালে ফেলছেন। বৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনা ও নোংরা পানি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাদের বসতঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে রবি মিয়া ও তার সহযোগীরা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধরসহ বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। এতে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোঃ সজীব মিয়া বলেন, সরকারি জমি দখল করে ভবন তো উঠছেই, তার ওপর নির্মাণকাজের সময় ইচ্ছা করে আমাদের টিনের চালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ঘরের ভেতর ময়লা পানি ও আবর্জনা পড়ে আমরা থাকতে পারছি না। প্রতিবাদ করলে রবি মিয়া ও তার লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। আমরা গরিব মানুষ—এ অবস্থায় কোথায় যাব?

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমি দখল করে নির্মাণাধীন ভবনটির বিষয়ে অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করা হোক। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন স্থাপনা হয়ে থাকলে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী তা অপসারণ/উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি খাস জমি দখল করে বেআইনি ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। লিখিত আবেদনটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি জমি রক্ষা ও অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আইনবহির্ভূত স্থাপনা থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ বা অপসারণের ব্যবস্থা করবে।