দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ‘কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ের আড়ালে নীরব চাঁদাবাজি, সরকারি জমি দখল, ভুয়া আইডি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে শেখ শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার অপপ্রচারে বাদ পড়েননি স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, চিকিৎসক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এমনকি পেশাদার সাংবাদিকরাও। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসন অতিদ্রুত তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে অঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ শাহজাহান নিজেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রিভার্স নিউজ’ সহ বিভিন্ন ভুয়া বা নামসর্বস্ব আইডি ব্যবহার করে তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-পদবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মানহানিকর পোস্ট ছড়িয়ে থাকেন। এমনকি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখালেখি করে দলকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তার অপপ্রচারের শিকারে পরিণত হয়েছেন চন্ডিগড় ইউনিয়নের আলহাজ মোহাম্মদ ইমাম হাসান আবু চান, ডিটেকটিভ আর্টিকেলের পরিচালক লুৎফুজ্জামান আলী ফকির এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাদ জামাল উদ্দিন মাস্টার। এ ছাড়া দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্স, বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক এবং স্থানীয় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি ব্যাহত করতে সরকারি কাজে বাধার সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী গারো (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাকলজোড়া ইউনিয়নে অবৈধ ‘তীর কাউন্টার’ পরিচালনা, সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় চোরাচালানি ও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় এবং অবৈধ দখলদারদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাফাই গেয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সম্প্রতি বিগত সরকার পতনের পর উপজেলার চরমোক্তারপাড়া এলাকায় জমি দখল করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন এই কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
এরই মধ্যে দুর্গাপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের চরমোক্তারপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কাতারপ্রবাসী হাজী নুর হোসেনের অর্থায়নে ইমারত নির্মাণ আইন ও সরকারি বিধিমালা তোয়াক্কা না করে প্রায় ৮ শতাংশ সরকারি জমির ওপর ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন শেখ শাহজাহান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা হলো সমাজের অসংগতি তুলে ধরার পবিত্র পেশা—কাউকে জিম্মি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার হাতিয়ার নয়। শেখ শাহজাহানের কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে চরমোক্তারপাড়ার সরকারি খাস জমি রক্ষা এবং অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ ও উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
