নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের স্টেশন বাজার এলাকায় একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নামফলক মুছে দিয়ে নতুন নাম লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্টেশন বাজার জামে মসজিদসংলগ্ন পূর্বধলা রেলওয়ে স্টেশন মোহাম্মদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’র মূল প্রবেশগেটের সিমেন্টের নামফলকটি একদল যুবক কালো কালি দিয়ে মুছে দেয়। উক্ত নামফলকে প্রতিষ্ঠানের নামসহ ‘স্থাপিত-১৯৮০প্রতিষ্ঠান কোড-৫৩৩৯১ এবং প্রতিষ্ঠাতা-ডা. মোহাম্মদ আলী স্পষ্ট অক্ষরে উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে ওই স্থানে ‘মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ লেখা একটি ছাপা কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমি লাইসেন্স নিয়মানুযায়ী গ্রহণ করে পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত প্রতিনিধি উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার রফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহানকে সদস্য সচিব করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, জুমার নামাজের পর খবর পাই একদল লোক প্রতিষ্ঠানের নামফলক মুছে দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে এসে নামফলকটি মোছা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে বিষয়টি অবহিত করি। একটি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নামফলক এভাবে মুছে ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বিকেল ৩টার দিকে কয়েকজন যুবক এসে নামফলক মুছে যায় এবং কিছুক্ষণ পর নতুন নামের কাগজ সেঁটে দিয়ে যায়।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম আনার ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে নামফলক মোছার অভিযোগ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত প্রকাশ করে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএসএম শহীদুল্লাহ ইমরান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলী ‘মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ নামেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতারণামূলকভাবে নাম পরিবর্তন করে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’র সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা মূল নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি দোকানের পজিশন ও মাসের ভাড়া পূর্বে মসজিদ-মাদ্রাসার যৌথ ফান্ডে জমা হতো। কিন্তু একটি পক্ষ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানগুলোর ভাড়া অনৈতিকভাবে আত্মসাৎ করছে এবং এর কোনো আর্থিক হিসাব প্রদান করছে না।

এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি জানার পর আমি দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা ও নাম নিয়ে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগামী সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হবে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই পক্ষকেই আপাতত শান্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।